রিয়ালিটি চেক: করোনাভাইরাস নিয়ে যেসব ভিত্তিহীন পরামর্শে আদৌ কান দেবেন না

ডেস্ক রিপোর্ট। সংযোগবার্তা।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে দেওয়া  পরামর্শগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরীক্ষিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দেয়া হচ্ছে না। যার অনেকগুলোই ঠিক নয়। বিবিসির অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বিভাগ ‘রিয়ালিটি চেক’ প্রকাশ করেছে এমন তথ্য।

১. নি:শ্বাস বন্ধ করে পরীক্ষা

দাবি করা হচ্ছে আপনি যদি ১০ সেকেণ্ড নি:শ্বাস বন্ধ করে থাকেন এবং সেসময় যদি আপনি কোন কষ্ট অনুভব না করেন, তাহলে বুঝতে হবে আপনার ফুসফুসে কোন ফাইব্রোসিস নেই। অর্থাৎ আপনার ফুসফুসের টিস্যু বা কলায় কোন ক্ষতি হয়নি, তা স্বাভাবিকের তুলনায় মোটা হয়ে যায় নি। সোজা কথায় আপনার ফুসফুসে সংক্রমণ নেই। এ তথ্য আদৌ সঠিক নয়। কারণ ফুসফুসে ফাইব্রোসিস হয়েছে কিনা তা নি:শ্বাস বন্ধ করে পরীক্ষা করা যায় না। তাছাড়া, ফাইব্রোসিস কোভিড-১৯ সংক্রমণের কোন উপসর্গ নয়। মনে রাখবেন কোভিড নাইনটিনে আক্রান্ত হলে তার প্রধান উপসর্গ হচ্ছে খুবই বেশি জ্বর এবং সঙ্গে একনাগাড়ে কাশি।

২. ঘরে হ্যাণ্ড স্যানিটাইজার তৈরির প্রণালী

হাত জীবাণুমুক্ত করার জন্য ঘরে বসেই স্যানিটাইজার তৈরির যেসব প্রণালী ইন্টারনেটে ছড়ানো হচ্ছে সেগুলো থেকে সাবধান। কোন আসবাবপত্র বা টেবিল বা যেসব জিনিসে আপনি হাত দিচ্ছেন – সেগুলো জীবাণুমুক্ত করার জন্য মোছার যেসব বস্তু পাওয়া যায় সেগুলো আপনার ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

৩. জীবাণুনাশক ভডকা

ইন্টারনেটে এমন দাবি করা হচ্ছে যে মদ্যপানীয় ‘ভডকা’ জীবাণুনাশকের কাজ করবে। আদতেই তা নয়। ভডকা-তে যথেষ্ট পরিমাণ অ্যালকোহল নেই যা জীবাণু মারার জন্য প্রয়োজন।

৪. কোন কোন ক্ষেত্রেকরোনাভাইরাসের আয়ু এক মাস

অনলাইনে ছড়ানো খবরে দাবি করা হচ্ছে কোন সারফেসের ওপর বা যে কোন জায়গার ওপর ভাইরাস এক মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকে। কোন কঠিন বস্তু থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি ৭২ ঘন্টা পর ব্যাপকভাবে কমে যায়।এটা প্রায় অসম্ভব। কারণ, সার্স বা মার্স-এর মত করোনাভাইরাসে নিয়ে আগে যেসব গবেষণা হয়েছে তাতে দেখা গেছে, কঠিন কোন জায়গার ওপর যেমন ধাতুর তৈরি, কাঁচ বা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি কোন সারফেসের ওপর করোনাভাইরাসের জীবাণু বেঁচে থাকে প্রায় দু ঘন্টা থেকে সর্বোচ্চ নয় দিন। ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের গবেষণাকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সরকার বলেছে কোন কঠিন বস্তু স্পর্শ করলে যেমন টেবিলের ওপর, হ্যাণ্ড রেলিং বা এধরনের অন্য কিছু, সেখান থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি ৭২ ঘন্টা পর ব্যাপকভাবে কমে যায়।

৫. গোমূত্র পান

ভারতে কিছু হিন্দু গোষ্ঠি মনে করে গোমূত্রের এমন কিছু চিকিৎসা গুণ রয়েছে যা করোনাভাইরাস এবং অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন গোমূত্রের এমন কোন গুণ নেই।গোমূত্র কোভিড নাইনটিন ঠেকাতে সক্ষম এমন কোন তথ্যপ্রমাণ নেই।তারা বলছেন গোমূত্র যেমন ক্যান্সার সারায় না, তেমনি গোমূত্র কোভিড নাইনটিন ঠেকাতে সক্ষম এমন কোন তথ্যপ্রমাণ নেই।

এদিকে, মানুষ থেকে মানুষের দেহে এই ভাইরাস কিভাবে ছড়ায় সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। এরই মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হাত ধোয়া বা পরস্পরের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলার মত কিছু নির্দেশাবলী জারি করেছে।

কাজেই সবচেয়ে ভাল পরামর্শ হলো: ভাল করে ঘন ঘন হাত ধোয়া, আর সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা।

প্রাণঘাতী নভেল করোনা বা কোভিড-১৯ বায়ুবাহিত ভাইরাস নয়  বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক পরিচালক ডক্টর পুনম ক্ষেত্রপাল সিং।২৩ মার্চ  সোমবার ডব্লিউএইচও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক অফিসের এক বার্তায় জানানো হয় এ তথ্য । শ্বাস-প্রশ্বাস এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে বেশিরভাগক্ষেত্রেই ছড়িয়ে পড়ছে  কোভিড-১৯। উদাহরণস্বরূপ যখন কোনো অসুস্থ ব্যক্তির কাশি হয় তখন উৎপন্ন হয় ভাইরাসটি। এখনো অবধি প্রাপ্ত তথ্য এবং আমাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে  এ কথা বলেন ডক্টর পুনম ক্ষেত্রপাল সিং।এজন্য  সাধারণ মানুষের হাত পরিষ্কারের পাশাপাশি একে অন্যের শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে দূরে থাকার রাখার পরামর্শ দেয় ডব্লিউএইচও।  তিনি আরো বলেন, ‘চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) এবং সিসিইউয়ের মতো স্থানে বায়ুর উচ্চ ঘনত্বে কোভিড ভাইরাস সংক্রমণের হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে, তবে এই পদ্ধতিটি বোঝার জন্য মহামারি বিজ্ঞানের তথ্যগুলোর আরও তদন্ত এবং বিশ্লেষণের প্রয়োজন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares